সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ দিলুর বিরুদ্ধে বিএনপির প্যাড-সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরির অভিযোগ খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের দোয়া ও মিলাদ বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে ইকবাল হোসেনের শ্রদ্ধা ও দোয়া খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি বিএনপির ছাত্রদলের নতুন কমিটি প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে, ঘোষণা যে কোনো সময় বসুন্ধরায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ খাঁদ পঞ্চায়েতের নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষ থেকে ফতুল্লা থানার ওসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা চাকরি হারিয়েছেন, জেল খেটেছেন—তবুও আদর্শ থেকে একচুলও সরেননি ডা. মুজিবুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের দখলে থাকলেও খাল পুনঃখনন হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন

কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ দিলুর বিরুদ্ধে বিএনপির প্যাড-সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরির অভিযোগ

স্বপ্নবাংলা নিউজ ডেস্ক / ৩৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

ফতুল্লার কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে পরিচিত দিলুর বিরুদ্ধে বিএনপির নাম, দলীয় প্যাড, সিল ও নেতাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে হত্যা মামলার আসামি এই দিলুকে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে না থাকা সত্ত্বেও দলীয় পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেতারা।

গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির নাম ব্যবহার করে দিলু (পিতাঃ মো. মজিদ হাওলাদার, মাতাঃ সুফিয়া খাতুন, সাং-পূর্ব সিয়াচর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ) নামে এক ব্যক্তির পক্ষে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রকাশ করা হয়।

কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাতবরের দাবি, দিলু ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কোনো সদস্য বা কর্মী নন। তাদের অনুমতি ছাড়াই দলীয় প্যাড, সিল ও স্বাক্ষর নকল করে তার পক্ষে প্রত্যয়নপত্রটি তৈরি করা হয়েছে।

দিলুর পক্ষে দেওয়া কথিত প্রত্যয়নপত্রটি যে ভুয়া ও জাল, তা স্পষ্ট করতে পরবর্তীতে পৃথকভাবে লিখিত প্রতিবাদ জানান কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাতবর এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের নিজস্ব প্যাডে লিখিতভাবে জানান, দিলুর পক্ষে প্রকাশিত ওই প্রত্যয়নপত্রের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা এ ধরনের কোনো প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেননি। একইভাবে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকও পৃথক প্যাডে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়ে প্রত্যয়নপত্রটিকে ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, তাদের অনুমতি ছাড়া দলীয় প্যাড, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রত্যয়নপত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এভাবে বিএনপির নাম ও দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনায় তারা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, দিলু দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত ছিলেন। তাদের দাবি, এলাকায় প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিএনপি নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দিলু আসামি হয়েছেন। ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-২০, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৪ এবং জিআর নং-৪৩৭-এ দণ্ডবিধির ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩০২/১১৪/৩৪ ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩(ক)/৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে বলে তারা জানান। এছাড়া ২৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখের মামলা নং-২৬-এর কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘মামলা থেকে বাঁচতেই ভুয়া প্রত্যয়নপত্র’
কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর নিজেকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখিয়ে আইনি সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই দিলুর পক্ষে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে ধারণা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের।
৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাতবর বলেন, “দিলু আমাদের ওয়ার্ড বিএনপির কোনো সদস্য বা কর্মী নন। তার পক্ষে যে প্রত্যয়নপত্র প্রকাশ করা হয়েছে, সেটির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের প্যাড, সিল ও স্বাক্ষর নকল করে দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তারা বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে বিএনপির পরিচয় দেওয়ার সুযোগ নেই। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এ ঘটনায় ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেতারা।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..