সংবাদ শিরোনাম :
বক্তাবলী ইউনিয়নবাসীকে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর শুভেচ্ছা জানালেন নজরুল ইসলাম প্রধান উপজেলা নির্বাচনে আসছেন প্রিন্সিপাল আহমদ সালেহ বিন মালিক গোপন বৈঠক বানচাল, জমিয়তে নেতাকর্মীদের ভয়ে পালালেন মাওলানা ফেরদাউস ​রূপগঞ্জে ভূমিদস্যু ‘আন্ডা রফিক’ এর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সভা রূপগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ চৌধুরী বাড়ির রেললাইন আদর্শ বাজার নির্বাচন: তরুণ প্রার্থী হৃদয়ের প্রতি বাড়ছে আস্থা নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত, ঐক্যবদ্ধ পথচলার প্রত্যয় ফতুল্লায় ব্যবসা দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি, দুই শিশুর মৃত্যু। রূপগঞ্জে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৫ রূপগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের পর দেশ ছাড়ার চেষ্টা। আন্ডা রফিকের গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল রূপগঞ্জ
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন

ভোলাগঞ্জে দুই মাসের লুট শেষে বিরান ভূমি—প্রশাসনের সাজানো অভিযানের পর্দা ফাঁস

স্বপ্নবাংলা নিউজ ডেস্ক / ৫২৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫

সিলেটের ভোলাগঞ্জ—যেখানে এক সময় পাহাড়ি নদীর নীল জলে ঝলমল করত সাদা পাথরের অপরূপ রাজ্য। দুই মাস আগে শুরু হয়েছিল অদেখা লুটের মহোৎসব। টানা সপ্তাহের পর সপ্তাহ, রাতের আঁধারে শত শত ট্রাক পাথরে ভরে চলে গেছে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক দিয়ে। কেউ বাধা দেয়নি, কেউ প্রশ্ন করেনি। প্রশাসন থেকেছে নীরব, যেন সবকিছু দেখেও কিছুই দেখছে না।

এখন লুট থেমে গেছে—কারণ আর লুট করার মতো কিছুই বাকি নেই। ভোলাগঞ্জের পাহাড়ি সৌন্দর্য আজ মৃত, জায়গাটি রূপ নিয়েছে ধুলা-মাটির বিরান মরুভূমিতে। আর এই ধ্বংসের পর যখন জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে, তখনই শুরু হয়েছে ‘অভিযান’ নামের সাজানো নাটক। দিনের বেলায় ক্যামেরার সামনে দেখানো হচ্ছে ধরা-ধরির দৃশ্য, রাতের আঁধারে আবার একই পথে পাথর পাচারের স্রোত চলেছে—সবই প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত সাদা পাথরের ছবি ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দেশবাসী। জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো টানা একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিন্তু তাতেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। অভিযানের নামে চলেছে প্রহসন, আর বাস্তবে ভোলাগঞ্জের ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে অবাধে।

স্থানীয়রা জানান, ভোলাগঞ্জ থেকে লুট করে আনা পাথর মিশিয়ে দেওয়া হয় ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানি করা পাথরের সঙ্গে। পরে সরকারি কাগজে ‘আমদানিকৃত পাথর’ দেখিয়ে সারা দেশে চালান পাঠানো হয়। ধোপাখোলা বাজার থেকে কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দুই পাশে ১৫ কিলোমিটারজুড়ে বসানো ক্রাশারগুলোতে দিনভর চলে পাথর চূর্ণের কাজ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির সিলেট সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার ক্ষোভে বলেন—“প্রশাসনকে ব্যর্থ বলব না, কারণ তারা চেষ্টাই করেনি। এক বছর আগেও কেউ এখানে হাত দেওয়ার সাহস পায়নি, এখন পাচ্ছে—এটাই প্রমাণ তারা ইচ্ছা করেই চোখ বন্ধ রেখেছে।”

জেলা প্রশাসক নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি করলেও জনমনে প্রশ্ন—যেখানে এক বছর আগেও লুট অসম্ভব ছিল, সেখানে এখন কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না? নাকি অভিযানের উদ্দেশ্যই ছিল জনসাধারণের চোখে ধুলা দেওয়া?

ভোলাগঞ্জের পাথর শেষ, কিন্তু থেকে গেছে লুটের কাহিনি—যা শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংস নয়, বরং প্রশাসনিক উদাসীনতা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নগ্ন উদাহরণ।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..