সংবাদ শিরোনাম :
বক্তাবলী ইউনিয়নবাসীকে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর শুভেচ্ছা জানালেন নজরুল ইসলাম প্রধান উপজেলা নির্বাচনে আসছেন প্রিন্সিপাল আহমদ সালেহ বিন মালিক গোপন বৈঠক বানচাল, জমিয়তে নেতাকর্মীদের ভয়ে পালালেন মাওলানা ফেরদাউস ​রূপগঞ্জে ভূমিদস্যু ‘আন্ডা রফিক’ এর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সভা রূপগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ চৌধুরী বাড়ির রেললাইন আদর্শ বাজার নির্বাচন: তরুণ প্রার্থী হৃদয়ের প্রতি বাড়ছে আস্থা নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত, ঐক্যবদ্ধ পথচলার প্রত্যয় ফতুল্লায় ব্যবসা দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রূপগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি, দুই শিশুর মৃত্যু। রূপগঞ্জে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৫ রূপগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের পর দেশ ছাড়ার চেষ্টা। আন্ডা রফিকের গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল রূপগঞ্জ
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

বক্তাবলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দোসরদের বিএনপিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ, কৃষক দলের কমিটি গঠন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা

স্বপ্নবাংলা নিউজ ডেস্ক / ২৭৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শাসনামলের কথিত দোসর ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে বক্তাবলী ইউনিয়ন কৃষক দলের রাজনীতিতে তাদের সম্পৃক্ত হওয়ার প্রচেষ্টাকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর এলাকার হাজী সামেদ আলী ও তার পরিবার এবং কাদির ও তার বাহিনী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মিত্র হিসেবে সক্রিয় ছিল। অভিযোগ রয়েছে, হাজী সামেদ আলীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ছাত্র হত্যা ও হত্যা মামলা অন্তর্ভুক্ত বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শীর্ষ নেতারা দেশত্যাগ করলেও, অনেক স্থানীয় নেতা প্রথমে আত্মগোপনে থেকে পরে আবার প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক পরিচয় বদলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনে সক্রিয় হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তাবলী ইউনিয়ন কৃষক দলের একাধিক নেতাকর্মী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন কৃষক দলের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে এবং কমিটিতে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের এসব কথিত দোসররা। এ ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী দলের ভেতরেরই কিছু প্রভাবশালী নেতা তাদের সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, বক্তাবলী ইউনিয়ন কৃষক দলের কমিটিতে যেন এসব বিতর্কিত ব্যক্তিরা স্থান না পায়—এই দাবিতে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা সোচ্চার অবস্থান নেওয়ায় এখনো কমিটি গঠন প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মগোপনে থেকেও যারা দলের আদর্শ ধরে রেখে রাজনীতি করে গেছেন, তারা আজ বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।

নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, “যারা একসময় দলের চিহ্নিত শত্রু ছিল, তারা কীভাবে আজ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দুঃসাহস দেখায়?” তাদের অভিযোগ, দলের ভেতরে থাকা কিছু স্বার্থান্বেষী ও বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত লাভের আশায় আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনে মদদ দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন কৃষক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরদের যদি পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।

পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের বক্তব্য, “আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের এখনো আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন? তারা কীভাবে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছে? প্রশাসনের চোখ কি তবে এ বিষয়ে বন্ধ?”

এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বক্তাবলী ইউনিয়ন কৃষক দলের নেতাকর্মীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..