কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে বলৎকারের অভিযোগে জসিম উদ্দিন মিসবাহ (৩০) নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছে এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তকে আটকের পর তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মিসবাহর বোন তার বাড়িতে এলাকার শিশুদের প্রাইভেট পড়ান। ভুক্তভোগী শিশুটিও সেখানে পড়ত। বৃহস্পতিবার সকালে পড়তে গেলে মিসবাহ শিশুটিকে ফুসলিয়ে পাশের একটি নার্সারিতে নিয়ে গিয়ে বলৎকার করে।
পরিবারের ভাষ্যমতে, শিশুটি আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে ঘটনা খুলে বললে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। আটকের পর গণজিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মিসবাহ তিন বছর আগেও মসজিদের মোয়াজ্জেন থাকা অবস্থায় একই ধরনের অপরাধ করেছিলেন। সে সময়ও এক শিশুকে বলৎকারের সময় হাতেনাতে ধরা পড়লে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে তিনি দুবাই পালিয়ে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি আবারও একই অপরাধে জড়ালেন। প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত মিসবাহ বর্তমান ও পূর্বের দুটি ঘটনার কথাই স্বীকার করছেন।
পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ উল্লাহ প্রথমে জানান, তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন তবে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি। পরে তিনি নিশ্চিত করেন, কক্সবাজার সদর থানার এসআই জয়দেবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এসে অভিযুক্তকে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, “শিশু বলৎকারের অভিযোগে একজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এদিকে, অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন মিসবাহ এবং পিএমখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোস্তাক আহমেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...