সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ খাঁদ পঞ্চায়েতের নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষ থেকে ফতুল্লা থানার ওসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা চাকরি হারিয়েছেন, জেল খেটেছেন—তবুও আদর্শ থেকে একচুলও সরেননি ডা. মুজিবুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের দখলে থাকলেও খাল পুনঃখনন হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে বুদ্ধিস্ট কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ সমাজ থেকে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ নির্মূলে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই : মামুন মাহমুদ  সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মতিন চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সেলিম হোসেনের গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জাকির খানের উদ্যোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মতিন চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ, ফতুল্লা থানায় তিন নির্মাণ শ্রমিক আটক কেক কেটে মিষ্টিমুখে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের জন্মদিন উদযাপন
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন

চাকরি হারিয়েছেন, জেল খেটেছেন—তবুও আদর্শ থেকে একচুলও সরেননি ডা. মুজিবুর রহমান

স্বপ্নবাংলা নিউজ ডেস্ক / ৫৬ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসে কিছু মানুষ সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যান, আবার কেউ কেউ প্রতিকূলতার আগুনে পুড়ে আরও দৃঢ় হয়ে ওঠেন। ডা. মুজিবুর রহমান তেমনই একজন। চাকরি হারিয়েছেন, হাসপাতাল হারিয়েছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, কারাগারে গেছেন—তবুও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি তিনি।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই চিকিৎসক নেতা আজও নারায়ণগঞ্জের রাজপথে সক্রিয়। বয়স ষাট পেরিয়েছে, কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রামের মিছিলে তাঁর উপস্থিতি এখনও তরুণদের মতোই দৃশ্যমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি পিছিয়ে যাননি। বরং প্রতিটি আঘাতকে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে চলেছেন।

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির অন্যতম সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. মুজিবুর রহমান। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুধু পদ-পদবির গল্প নয়; বরং ত্যাগ, নির্যাতন, কারাবরণ আর আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার এক দীর্ঘ ইতিহাস।

শহীদ জিয়ার সান্নিধ্যে বদলে যায় জীবনের গতিপথ
১৯৬৩ সালে চাঁদপুরের মতলবের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম ডা. মুজিবুর রহমানের। কৈশোরেই তাঁর মধ্যে জন্ম নেয় রাজনীতির প্রতি আগ্রহ। ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ‘খাল খনন’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

কিশোর বয়সে শহীদ জিয়ার সরাসরি সান্নিধ্য ও দেশগঠনের কর্মসূচি তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। দেশপ্রেম, মানুষের জন্য কাজ করা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে শিক্ষা তিনি তখন পেয়েছিলেন, পরবর্তী জীবনে সেটিই তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

সেই সময় থেকেই শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে পথচলা শুরু করেন তিনি। এরপর সময় গড়িয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে, এসেছে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝা; কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসে পরিবর্তন আসেনি।

উত্তাল সময়ে ছাত্রদলের গোড়াপত্তন
১৯৭৯ সালে ঢাকা কলেজের অগ্নিগর্ভ রাজনৈতিক পরিবেশে ছাত্রদলের গোড়াপত্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ডা. মুজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে কাজ করেন তিনি।

তখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রদলের রাজনীতি করা ছিল মোটেও সহজ বিষয় নয়। নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি যে সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন, সেটিই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের পথকে আরও সুদৃঢ় করে।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাজীবনেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এনেস্থেসিয়ায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও রাজনীতির মাঠ থেকে নিজেকে কখনো গুটিয়ে নেননি।

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি হারানোর অভিযোগ
আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে ডা. মুজিবুর রহমানকে দিতে হয়েছে বড় মূল্য। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি চাকরি হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে ও তাঁর চিকিৎসক স্ত্রীকে।
২০১৭ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে তাঁদের সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেই বরখাস্তের আদেশও ২০১৪ সালের ব্যাকডেট দিয়ে কার্যকর করা হয়েছিল।
এর চেয়েও বেদনাদায়ক অধ্যায় ছিল তাঁর পরিবারের জন্য। তাঁর চিকিৎসক ছেলেকেও বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি-বেসরকারি কোথাও চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন পিতার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে—নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে শুধু নিজের নয়, পরিবারের সদস্যদেরও এর মূল্য দিতে হচ্ছে। কিন্তু এতকিছুর পরও ডা. মুজিবুর রহমান আদর্শের পথ থেকে সরে দাঁড়াননি।

হাসপাতাল ধ্বংস, মামলা-হামলা ও কারাবরণ
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোও তাঁকে পিছু হটাতে পারেনি। ২০১০ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তাঁর তিলে তিলে গড়ে তোলা হাসপাতাল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল হারানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলার বোঝাও নেমে আসে তাঁর ওপর। একের পর এক মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের কারণে স্বাভাবিক জীবনও কঠিন হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর নিজের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর সুযোগ পাননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান।

গায়েবি মামলা থেকে শুরু করে কারাবরণ—সবই সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও একটি মামলায় প্রায় দুই মাস কারাগারে কাটাতে হয় তাঁকে।
কিন্তু কারাগারের দেয়াল তাঁর মনোবল আটকে রাখতে পারেনি। মুক্তির পর আবারও ফিরে এসেছেন রাজপথে। আবারও দাঁড়িয়েছেন দলের কর্মসূচিতে। আবারও কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছেন সহযোদ্ধাদের সঙ্গে।

চিকিৎসক সমাজেও নেতৃত্বের স্বাক্ষর
রাজনীতির পাশাপাশি চিকিৎসক সমাজেও দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ডা. মুজিবুর রহমান। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।

একই সঙ্গে চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। বাংলাদেশ সোসাইটি অব এনেস্থেসিওলজিস্টসের নারায়ণগঞ্জ শাখা এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পল্লী চিকিৎসক সমিতির কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখছেন তিনি।
চিকিৎসক হিসেবে রোগীর সেবা আর রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মানুষের অধিকার—দুই ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়াকেই জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন তিনি।

ত্যাগই যাঁর রাজনৈতিক পরিচয়
ডা. মুজিবুর রহমানের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁর রাজনৈতিক পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগের চেয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন আদর্শের কঠিন পথ। চাকরি হারিয়েছেন, পরিবারকে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মামলা হয়েছে, কারাগারে যেতে হয়েছে—তবুও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে কোনো আপসের ছাপ দেখা যায়নি।
তাঁর সহযোদ্ধাদের ভাষায়, ডা. মুজিবুর রহমানকে ভয় দেখানো যায়, কিন্তু কেনা যায় না।

আজও কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে তাঁকে দেখা যায় সামনের সারিতে। বয়স তাঁকে থামাতে পারেনি, মামলা তাঁকে ভীত করতে পারেনি, কারাগার তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি।

‘মচকেছেন, কিন্তু ভাঙেননি’
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাওয়া আঘাতগুলোকে তিনি দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে নিয়েছেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন বলে—রাজনীতি শুধু পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার হিসাব নয়; রাজনীতি কখনো কখনো বিশ্বাসের জন্য ত্যাগ স্বীকারের নাম।

ষাটোর্ধ্ব এই চিকিৎসক নেতা তাই আজও নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসে অটল। রাজপথে তাঁর দৃঢ় উপস্থিতি, সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা একটি পরিচিতি দিয়েছে।

চাকরিচ্যুতি তাঁকে থামাতে পারেনি, মামলা তাঁকে নত করতে পারেনি, কারাগার তাঁকে ভাঙতে পারেনি। বরং প্রতিটি প্রতিকূলতার পর তিনি আরও দৃঢ় হয়ে ফিরেছেন।
তাই ডা. মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো একটাই—তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন, অনেক কিছু সহ্য করেছেন; কিন্তু তাঁর আদর্শকে হারাতে দেননি।
নারায়ণগঞ্জের রাজপথে তাই তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নেতা নন—তিনি ত্যাগের, ধৈর্যের এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসে অটুট থাকার এক জীবন্ত উদাহরণ।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..