সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যক্তির আবেগঘন ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়েছেন। ক্যামোফ্লেজ প্যান্ট ও কালো বুট পরিহিত অবস্থায় ধারণ করা ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “বিশ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন শপথ করে বলেছিলাম, এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো। আজ আবার শপথ করে বলতেছি, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমার জীবন আমি উৎসর্গ করবো।”
ভিডিও ধারণকারী ওই ব্যক্তি তার বক্তব্যে আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবাসে।” তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন যে, সেনাবাহিনীর সদস্যরা শেখ হাসিনার সঙ্গে “বেইমানি করবে না”। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ গড়ে তোলার জন্যও তিনি আহ্বান জানান।
এই ভিডিও প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ওই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, একটি বিশাল অংশ সশস্ত্র বাহিনীর একজন সদস্যের এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের মতে, দেশের সংবিধান ও সামরিক আইন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশ করতে পারেন না। তাদের একমাত্র দায়িত্ব দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত থাকা নয়।
তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি সত্যিই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোনো কর্মরত সদস্য কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি তিনি সত্যিই সেনাবাহিনীর সদস্য হন, তবে এটি শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর অরাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত হতে পারে বলেও অনেকে ধারণা করছেন। এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...