আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত ১ তারিখ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেও আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
তবে এই কিংবদন্তি নেতার মৃত্যুর খবরের পাশাপাশি তাঁর দাফনের স্থান নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক। সরকার চেয়েছিল ঢাকার বনানী কবরস্থানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে (প্রায় ১০০ লোকের উপস্থিতিতে) তাঁর দাফন সম্পন্ন হোক। অন্যদিকে, পরিবার ও তাঁর নিজ জেলার মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাঁর মরদেহ যেন জন্মভূমি ভোলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়।
সরকারি চাপের মুখে তোফায়েল আহমেদের পরিবার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না বলে জানা গেছে। পরিবারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যেমন তাঁর ভাগ্নে সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল, কারাগারে বা আত্মগোপনে থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হয়। এই পরিস্থিতি পরিবারকে এক কঠিন সংকটের মধ্যে ফেলে দেয়।
সরকারের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এই ঘটনাকে প্রয়াত শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের দাফনের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন। সে সময়ও সরকারি বাধা সত্ত্বেও লাখো মানুষ তাঁর জানাজায় অংশ নিয়েছিল। তোফায়েল আহমেদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জনরোষের আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
এদিকে, ভোলার এই অবিসংবাদিত নেতার মৃত্যুতে পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে সরকারি চাপের ভয়ে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বড় কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছিলেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
অবশেষে, দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এই জননেতাকে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ভোলার গ্রামের বাড়িতে, তাঁর মায়ের কবরের পাশেই শায়িত করা হবে। এই খবরে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ভোলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিংবদন্তি এই নেতার শেষ বিদায় জন্মভূমির মাটিতেই হবে, যা তাঁর অগণিত অনুসারী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...