সংবাদ শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির উদ্বোধন দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কারামুক্ত সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এনায়েতনগরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে যুবদলের দোয়া মাহফিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলার দুই আসামি গ্রেফতার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার, নারায়ণগঞ্জে মিছিলের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের রাত্রিকালীন কেন্দ্রীয় রোলকলে সম্মানিত পুলিশ সুপার এর অংশগ্রহণ পুলিশ সুপারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রীতিভোজে অংশ নিলেন পুলিশ সদস্যরা ফতুল্লায় হোসিয়ারী ব্যবসায়ী হারুন খালাসী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রূপগঞ্জবাসীসহ দেশবাসীকে গোলাম ফারুক খোকনের শুভেচ্ছা বার্তা
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা পরিষদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

স্বপ্নবাংলা নিউজ ডেস্ক / ৪০৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে সনাতন ধর্মাবলম্বী দিপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানার ভেতরে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে একদল দুর্বৃত্ত দিপু চন্দ্র দাসকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে কারখানার বাইরে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় কিছু লোকজনের সহায়তায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পরও নৃশংসতা থেমে থাকেনি—দুর্বৃত্তরা তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা মানবতার ইতিহাসে এক ভয়াবহ ও জঘন্য অপরাধ। বক্তারা বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত দিপু চন্দ্র দাসের অসহায় স্ত্রী, কন্যা ও পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ১০ কোটি টাকার এফডিআর বা সঞ্চয়পত্র প্রদানের দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। অথচ বর্তমানে কারা এ ধরনের বর্বর ও নৃশংস অপকর্মে জড়িত, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করা জরুরি। তারা ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদীসহ ৭১ এবং জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিকদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সংখ্যালঘুদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুনাথ দে এবং ছাত্র মহাজোটের নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিষ্ণুপদ সাহার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাসের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক শংকর কুমার দে। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সহ-সভাপতি শ্রী প্রদীপ সরকার, সহ-সভাপতি তিলোত্তমা দাস, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক উত্তম কুমার সাহা, সহ-সভাপতি হিমাদ্রি সাহা হিমু, সহ-সভাপতি বিমল চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক শংকর কুমার রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষ্ণ আচার্য্য, লাইব্রেরি সম্পাদক রতন সাহা, সহ-দপ্তর সম্পাদক সুমন দে, সদস্য দিলীপ সাহা, বন্দর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বিশ্বাস, ফতুল্লা থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ মণ্ডল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের প্রচার সম্পাদক তপন ঘোষ সাধু, সহ-প্রচার সম্পাদক তারেক দাস, দপ্তর সম্পাদক অভিজিৎ সেন সজল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক রিপন রুদ্র, সোনারগাঁও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমিত রায়, আড়াইহাজার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সুজন বিশ্বাসসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানার ভেতরে দিপু চন্দ্র দাসকে মারধর শুরু করে একদল শ্রমিক। পরে তাকে কারখানার বাইরে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় কিছু লোকজন ও আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে পিটুনিতে অংশ নেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এবং নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..