নারায়ণগঞ্জে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ চাঁদাবাজি, প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডিবিতে দায়িত্ব পালনকাল থেকেই ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের নানা অভিযোগ ছিল। তবে ফতুল্লা থানায় যোগদানের পর সেই অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির নাম ব্যবহার করে এবং নিজেকে “কুমিল্লার বড় ভাইদের ঘনিষ্ঠ” পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ডেকে আনতেন। এসব বৈঠকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সদর এলাকার ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকতে দেখা যেত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো বলেও দাবি তাদের।
এদিকে, কিছু ঘটনার ভিডিও গোপনে ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক তথ্য ও বক্তব্যে নতুন করে সামনে আসে ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো।
ভুক্তভোগীদের একজন জানান, ফতুল্লা থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় (জিআর-২২) আসামি করার ভয় দেখিয়ে তার কাছে প্রথমে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে সমঝোতার নামে ১ লাখ টাকা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। বরং ‘যোদ্ধা মাহফুজ’ নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, গত ৬ মে রাজধানীর নয়া পল্টনের জোনাকী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একটি থাই-চাইনিজ রেস্টুরেন্টে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে ডাকা হয়। রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে সেখানে অন্তত ছয়জনের সঙ্গে বৈঠক করেন ওসি মাহবুব আলম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৈঠক শেষে একটি শপিং ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করেন তিনি। ওই সময় তাকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে এবং কমলা রঙের গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায় বলেও জানিয়েছেন উপস্থিত কয়েকজন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরো ঘটনাটি রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ হয়ে থাকতে পারে।
এমন ধারাবাহিক অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপসংহার
জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের বিরুদ্ধেই যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে—তবে তা সাধারণ মানুষের আস্থাকে গভীরভাবে নড়বড়ে করে দেয়।
ওসি মাহবুব আলমকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখন শুধু ব্যক্তিগত অনিয়মের প্রশ্ন নয়; বরং পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...