সংবাদ শিরোনাম :
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার, রয়টার্সকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নানা দাবি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কায়েমপুরে জুমার নামাজ আদায় শেষে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়, পানির সংকট নিরসনের আশ্বাস দিলেন এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বগুড়ার শিবগঞ্জে বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর : এসপি মিজানুর রহমান মুন্সি বগুড়ার শেরপুরের তালতা গ্রামের রাস্তার বেহাল দশা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মামুন মাহমুদকে একটু সময় দিন, আশ্রয়ণ প্রকল্প হবে আধুনিক আবাসিক এলাকা” — উজ্জ্বল ভূমিহীনদের জীবনমান উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি: চর সৈয়দপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড বগুড়ায় বিমান ঘাঁটির অনুমোদন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ও ড্রোন কারখানার পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার, রয়টার্সকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নানা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। মৃত্যুদণ্ডের রায়, দলীয় নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেপ্তার কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় বলে জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার ঝুঁকিও রয়েছে। তবুও তিনি নিজের দেশেই ফিরে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান।
তিনি বলেন, “ফিরে গেলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যা করতেও পারে। তারপরও আমাকে ফিরতে হবে। আমার দলের নেতাকর্মীরা চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর এবং তাদের রক্ত মিশে আছে।”
শেখ হাসিনার দাবি, তিনি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তার ভাষায়, এতে দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সরকারের আচরণ জনগণের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। তার বক্তব্য, বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত আনতে ভারতের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে বলে তিনি জেনেছেন, তবে তিনি নিজ উদ্যোগেই দেশে ফিরে আদালতে হাজির হতে চান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। তবে শুরু থেকেই তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি তাদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, “আমি এবার দেশে ফিরছি। একদিন তোমরাও সবাই ফিরে আসবে। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা একইভাবে দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় হিসেবে ডিসেম্বরের কথা উল্লেখ করলেও ঠিক কোন তারিখে ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে কোনো গোপন আলোচনা চলছে না। তার ভাষায়, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং বিচার—এসব গোপন আলোচনার বিষয় নয়।”
আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “আমাকে দণ্ডিত করা হয়ে থাকতে পারে এবং হয়তো আমি নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? যদি আমরা খারাপ করে থাকি, তাহলে জনগণই তার বিচার করুক।”
রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও পরবর্তী সময়ে তার সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী মত দমন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার অভিযোগ ওঠে। তবে শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
প্রতিবেদনে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের তথ্যও উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন। বিশ্লেষকদের মতে, ওই ঘটনাই শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও অনলাইনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ১২৫টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন এবং দলকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানোকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..