চাঁদাবাজি, জমি দখল, হামলা, বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন এবং তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মের অভিযোগে এলাকায় ইকবাল হোসেন ও তার অনুসারীদের নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের নানা অপকর্মের দীর্ঘদিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত তার বোনজামাই মোস্তাক ২০ লাখ টাকার কন্ট্রাকে গোলজারের ৩ কাঠা জমি দখল করে নিয়েছেন। এছাড়া মিতালী মার্কেট সংলগ্ন হেমায়েত উদ্দিনের ৩১ শতাংশ জমি ও মার্কেট দখল করতে হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, মিতালী মার্কেটের ৪ নম্বর ভবনের পাশে বোমা ফাটানো ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মার্কেট ও পরিবহনকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, ইকবাল হোসেন হকার্স মার্কেট, মিতালী মার্কেট, সাইনবোর্ড স্ট্যান্ড, সিএনজি ও অটো এবং মিশুক থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা বাবদ আদায় করছেন।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, ইকবাল হোসেনের নানা অপকর্মের কারণে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে এরপরও তার কর্মকাণ্ডে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ তাদের। বরং ইকবাল হোসেন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যদি চাঁদাবাজি, জমি দখল কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকে, তাহলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
সচেতন এলাকাবাসী ও হেমায়েত উদ্দিন জানান, ইকবাল হোসেন ও তার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপির হাইকমান্ডের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...