নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্মাণ কাজ চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে তিন নির্মাণ শ্রমিককে আটক করে ফতুল্লা মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ভবিষ্যতে আর ওই স্থানে নির্মাণ কাজ করবেন না—এমন মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আকন্দ (৬১) এবং নরসিংদী পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার মো. সরোজ কুমার সাহার মধ্যে একটি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ দেওয়ানি আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে জাহাঙ্গীর আকন্দ উল্লেখ করেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি নিয়ে চলমান মামলায় আদালত উভয় পক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গত ৩০ জুলাই ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ওই সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মারধরের জন্য উদ্যত হওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা থানায় অভিযোগ করলে তাকে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এরপর তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির বিবরণ
অভিযোগপত্রে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির বিবরণে ফতুল্লা মৌজার সি.এস-১৬৮, এস.এ-২৩৭ ও আর.এস-২৪৭ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমির উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই সম্পত্তিতে তার মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার রয়েছে।
নির্মাণ শ্রমিকদের আটক ও ছেড়ে দেওয়া
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে নির্মাণ কাজ চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে তিনজন নির্মাণ শ্রমিককে আটক করে ফতুল্লা মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তারা ভবিষ্যতে ওই বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে আর কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করবেন না—মর্মে মুচলেকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় যাতে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে কোনো ধরনের নির্মাণ কাজ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ ঘটনায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...