নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন এনায়েতনগর ইউনিয়নের মুসলিমনগর প্রেম রোড এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের অন্যতম আলোচিত নাম এখন সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে সরকারকে বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোল্ডিং নম্বর ৬৯৬, ওয়ার্ড-৪, ব্লক-ডি, মুসলিমনগর প্রেম রোড এলাকায় ২০১৪ সালে ভবন নির্মাণের পর থেকেই সেলিম অবৈধভাবে ১০টি গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে আসছেন। এই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিতাস গ্যাস কোম্পানির কন্ট্রাক্টর গিয়াসের মাধ্যমে এককালীন ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব সংযোগ নেওয়া হয়। এছাড়াও প্রতি বছর নির্দিষ্ট অংকের টাকা পরিশোধ করে অবৈধ সংযোগ সচল রাখা হতো। পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই চললেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, সেলিম স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। বরং বিষয়টি নিয়ে কেউ তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বা প্রতিবাদ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“সেলিম প্রকাশ্যে বলে বেড়ান তার বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা কারও নেই। প্রশাসনও নাকি তার নিয়ন্ত্রণে। এজন্য এলাকায় সবাই আতঙ্কে থাকে।”
এদিকে বৈধ গ্যাস সংযোগের জন্য সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করলেও সেলিমের মতো ব্যক্তিরা অবৈধ সংযোগে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, সেলিমের অবৈধ গ্যাস সংযোগ দ্রুত বিচ্ছিন্ন করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিতাস গ্যাসের অসাধু কর্মকর্তা ও দালালচক্রকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...