অলি-আউলিয়াদের মাজার সংস্কৃতি রক্ষা, সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী অপরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে, তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য মশিউজ্জামান পাবেল। দেশের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের কথা স্মরণ করে তিনি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সংসদের কার্যক্রম নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেন। বিশেষ করে মিরপুরের শাহ আলী বাগদাদী (র.) মাজার শরীফে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি একটি কঠোর রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
সম্প্রতি মিরপুর শাহ আলী বাগদাদী (র.) এর মাজারে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং ‘আমরা কোন মাজারের ব্যাপারে যাবোনা, এটা ওলামায় কেরামদের ব্যাপার ওনারাই এ ব্যাপারে বুঝবেন’ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ হাসানের এমন বক্তব্যের জেরে ভিপি পাবেল বলেন, জামায়াতে ইসলামী অলি-আউলিয়াদের মর্যাদা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখে না। গত বৃহস্পতিবার আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত মাজার শরীফে যে হামলা চালানো হয়েছে, তাতে দরবারের খাদেমসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, যদি কোনো তরিকা আশেকিন ভাই বা হক্কানী অলি-আউলিয়ার দরবারে আর একবার হামলা চালানো হয়, তবে দেশের সমস্ত আশেক, ওলি প্রেমিক ও তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে জামাত নিষিদ্ধের দাবিতে রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অলি-আউলিয়াদের সাথে এই বেয়াদবি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং এই আগুন নিয়ে কাউকে খেলার দুঃসাহস না দেখানোর জন্য তিনি শেষ সতর্কবাণী দেন।
একই সাথে বিদায়ী শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে ভিপি পাবেল বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে দেশের সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। মাদক, অপসংস্কৃতি ও দেশের গৌরভউজ্জ্বল ৫৭জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে দেশকে মেরুদণ্ডহীন করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, যেখানে সমাজের মুরুব্বিদের কোনো সম্মান ছিল না। এই সমস্ত মৌলিক অধিকার ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল কী ভূমিকা রেখেছে এবং জনগণের করের টাকায় চলা সংসদের প্রতিদিনের খরচের বিপরীতে তারা কী প্রস্তাব পেশ করেছে তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ কেবল ‘৭২-এর সংবিধান ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা দেখছে, কিন্তু মানুষের ভেতরে মানার যোগ্যতা তৈরি না হলে শতবার সংবিধান পরিবর্তন করেও কোনো লাভ হবে না।
বক্তব্যে ভিপি পাবেল আরও অভিযোগ করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে রাশেদ প্রধান যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তা স্পষ্টতই সংবিধান লঙ্ঘন। এই ধরনের ঘটনার পর বিরোধী দল কেন সংসদে রাষ্ট্রদ্রোহী বা মানহানির মামলা করার সুপারিশ করেনি, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিশেষে, রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শরীয়ত ও মারফতের জ্ঞানহীন যারা ইসলামকে পুঁজি করে দেশে রাজনীতির ব্যবসা করছে, তাদের এই অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। একই সাথে অলি-আউলিয়াদের অবমাননা ও দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে অতি দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান এই ছাত্রনেতা।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...