নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হোসিয়ারী ব্যবসায়ী মোঃ হারুন খালাসী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা মডেল থানার মামলা নং-৯৩, তারিখ ২৭ মে ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৮০/৩৪ পেনাল কোডে দায়েরকৃত এ মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
নিহত মোঃ হারুন খালাসী (৪৬) দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা খান সাহেব আলী ওসমানী স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় একটি হোসিয়ারী কারখানা পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ২৬ মে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য তিনি কারখানায় নগদ টাকা রাখেন। পরে বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে সন্দেহজনক বার্তা পেয়ে কারখানায় গিয়ে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলে হারুন খালাসীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ভিক্টোরিয়া মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে, এজাহারভুক্ত আসামি মোসাঃ মীম (২০) ও মোঃ রানা হোসেন (২৪) নিহতের কারখানায় কাজ করতেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তারা হারুন খালাসীকে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। পরে কারখানায় থাকা হোসিয়ারি কাপড় বাঁধার গার্ডার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
হত্যার পর শ্রমিকদের বেতনের জন্য রাখা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যায় এবং বাইরে থেকে কারখানার দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার “ক” সার্কেল মোঃ শামীম হোসেনের দিকনির্দেশনায় এবং ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুব আলমের নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জহিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেন।
পরে তাদের দেখানো মতে নিহতের ব্যবহৃত ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...