সংবাদ শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে ২০২৬ সালের বৃক্ষ মেলার সমাপ্তি, প্রথম নগর কানন নার্সারি আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রীড়া পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা ইয়াবা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক  সাখাওয়াত হোসেন খানের জন্মদিন পালন করলেন মহানগর যুবদল নেতা আব্দুর রহমান চাঁদাবাজি-জমি দখলের অভিযোগে ইকবাল হোসেন ও তার বাহিনী, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে ডনকে, তিন দশক পর উন্মোচিত হবে সালমান শাহ হত্যার জট? রুহুল কবির রিজভীকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন গোল মোহাম্মদ সরদার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা হলেন জুয়েল আরমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় রুহুল কবির রিজভীকে ফুলেল শুভেচ্ছা কেন্দ্রীয় ও নারায়ণগঞ্জ যুবদল নেতাদের হত্যা মামলার আসামি দেলু প্রকাশ্যে, প্রশাসন নির্বিকার!
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

ভোলাগঞ্জে দুই মাসের লুট শেষে বিরান ভূমি—প্রশাসনের সাজানো অভিযানের পর্দা ফাঁস

স্বপ্নবাংলা নিউজ ডেস্ক / ৬৭৯ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫

সিলেটের ভোলাগঞ্জ—যেখানে এক সময় পাহাড়ি নদীর নীল জলে ঝলমল করত সাদা পাথরের অপরূপ রাজ্য। দুই মাস আগে শুরু হয়েছিল অদেখা লুটের মহোৎসব। টানা সপ্তাহের পর সপ্তাহ, রাতের আঁধারে শত শত ট্রাক পাথরে ভরে চলে গেছে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক দিয়ে। কেউ বাধা দেয়নি, কেউ প্রশ্ন করেনি। প্রশাসন থেকেছে নীরব, যেন সবকিছু দেখেও কিছুই দেখছে না।

এখন লুট থেমে গেছে—কারণ আর লুট করার মতো কিছুই বাকি নেই। ভোলাগঞ্জের পাহাড়ি সৌন্দর্য আজ মৃত, জায়গাটি রূপ নিয়েছে ধুলা-মাটির বিরান মরুভূমিতে। আর এই ধ্বংসের পর যখন জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে, তখনই শুরু হয়েছে ‘অভিযান’ নামের সাজানো নাটক। দিনের বেলায় ক্যামেরার সামনে দেখানো হচ্ছে ধরা-ধরির দৃশ্য, রাতের আঁধারে আবার একই পথে পাথর পাচারের স্রোত চলেছে—সবই প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত সাদা পাথরের ছবি ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দেশবাসী। জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো টানা একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিন্তু তাতেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। অভিযানের নামে চলেছে প্রহসন, আর বাস্তবে ভোলাগঞ্জের ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে অবাধে।

স্থানীয়রা জানান, ভোলাগঞ্জ থেকে লুট করে আনা পাথর মিশিয়ে দেওয়া হয় ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানি করা পাথরের সঙ্গে। পরে সরকারি কাগজে ‘আমদানিকৃত পাথর’ দেখিয়ে সারা দেশে চালান পাঠানো হয়। ধোপাখোলা বাজার থেকে কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দুই পাশে ১৫ কিলোমিটারজুড়ে বসানো ক্রাশারগুলোতে দিনভর চলে পাথর চূর্ণের কাজ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির সিলেট সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার ক্ষোভে বলেন—“প্রশাসনকে ব্যর্থ বলব না, কারণ তারা চেষ্টাই করেনি। এক বছর আগেও কেউ এখানে হাত দেওয়ার সাহস পায়নি, এখন পাচ্ছে—এটাই প্রমাণ তারা ইচ্ছা করেই চোখ বন্ধ রেখেছে।”

জেলা প্রশাসক নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি করলেও জনমনে প্রশ্ন—যেখানে এক বছর আগেও লুট অসম্ভব ছিল, সেখানে এখন কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না? নাকি অভিযানের উদ্দেশ্যই ছিল জনসাধারণের চোখে ধুলা দেওয়া?

ভোলাগঞ্জের পাথর শেষ, কিন্তু থেকে গেছে লুটের কাহিনি—যা শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংস নয়, বরং প্রশাসনিক উদাসীনতা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নগ্ন উদাহরণ।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..