বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, দেশে প্রতিদিনই অস্থিরতা বাড়ছে, বিনিয়োগ কমছে, মেধাবী তরুণরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কর্তব্য পালন না করে হঠাৎ পাওয়া ক্ষমতার ভোগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে দেশ দ্রুত অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সম্প্রতি এক টকশোতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “যতো দিন যাচ্ছে ততোই পরিস্থিতি ঘোলাটে হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলার অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে।”
তিনি জানান, এ অবস্থার বিষয়ে বিএনপির একক মন্তব্য নয়—সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বক্তব্য তুলে ধরে রুমিন বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে না।
বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক সরকার দেখতে চান। কিন্তু বর্তমানে বিনিয়োগ কমছে, মানুষ অধৈর্য হয়ে উঠছে।”
অন্তবর্তী সরকারের পদধারীদের দিকে ইঙ্গিত করে রুমিন ফারহানা বলেন, “যারা জীবনে দেশেই স্থায়ীভাবে ছিলেন না, যাদের নামও মানুষ চিনত না—আজ তারা বড় বড় পদে বসে বড় বড় কথা বলছেন। অথচ দায়িত্ববোধের কোনো প্রমাণ নেই। নির্বাচন ছাড়া দেশে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। শুধু অবৈধভাবে পাওয়া ক্ষমতার স্বাদ উপভোগ করা হচ্ছে।”
দেশের পরিস্থিতির ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, “গত ৩৬৫ দিনে প্রায় ৩৭০–৩৮০টি মব লিঞ্চিং ঘটেছে। বছরে এতগুলো মব হলে সেই দেশে কোনো বিনিয়োগকারী থাকতে চাইবে না; সেখানে পাগলও বাস করতে চাইবে না।”
তিনি আরও বলেন, গত ৪০ বছরে ভয়াবহ হারে ব্রেইন ড্রেন হয়েছে। দেশের শিক্ষিত সমাজের অধিকাংশ সন্তান বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। এখনো শিক্ষিত পরিবারগুলোর মধ্যে দেশত্যাগের প্রবণতা বাড়ছে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...