স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, বিএনপি যখন সরকারের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলছে, তখন নিজেদের ভেতরে এমন সন্ত্রাসী প্রদর্শন দলের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেবে। কয়েকজন তৃণমূল কর্মী বলেন, “মানুষ যদি দেখে বিএনপির ভেতরে নিজেদের মধ্যে অস্ত্রবাজি চলে, তবে তারা কিভাবে বিশ্বাস করবে বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে?”
এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে নজরুল ইসলাম আজাদের নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে। দলের ভেতরে অনেকে মনে করছেন, তার কর্মীরা যদি প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এমন আচরণ করতে পারে, তবে তা নেতার নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্বের ঘাটতি স্পষ্ট করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আজাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
বিএনপি সব সময় নিজেকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পক্ষে শক্তি হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু দলের ভেতরে প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি সেই ইমেজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের হাতেই অস্ত্র তুলে দিচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সহিংসতা বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনী মাঠে প্রতিপক্ষের দমন-পীড়নের অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের ঘরের সহিংসতা যোগ হলে দলের প্রতি জনসমর্থন আরও ক্ষয়ে যাবে। তাই দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে এ ধরনের ঘটনা শুধু নারায়ণগঞ্জ-২ আসনেই নয়, সারাদেশে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে তুলতে পারে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...