নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাসেল সিপাই (২৮) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে মারধর, গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা, কাঠের ডাসা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা নগদ ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের আংটি নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী রাসেল সিপাই। অভিযোগে কাদের সিপাই, মন্নাক, মোতালেব, দেলোয়ার হোসেন মেসি, বিল্লাল, রাজিব, হাসান আলী, আবু সাঈদ, ইমন ও সুজা মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রাসেল সিপাইয়ের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে। তিনি ও স্থানীয় কয়েকজন মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অবস্থান নেওয়ায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এলাকায় আয়োজিত একটি মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেন। এতে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে রাসেল বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ফতুল্লার সিপাইপাড়া মার্কেট এলাকার একটি হোটেলের সামনে তাকে দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন।
তার অভিযোগ, হামলার সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। একপর্যায়ে কাদের সিপাই তাকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মন্নাক হাতে থাকা কাঠের ডাসা দিয়ে রাসেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এছাড়া মোতালেব হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে তাকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন রাসেল। তবে কোপটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় বলে তার দাবি।
হামলার একপর্যায়ে রাসেলের জামা-কাপড় টেনে-হিঁচড়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং কয়েকজন মিলে তার বুকে, পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসেলের দাবি, হামলার সময় তার মাথা ও কানের আশপাশে আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
শুধু মারধর নয়, হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রীও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন রাসেল।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য লুঙ্গির কোচরে রাখা ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নগদ, প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভিভো মোবাইল ফোন এবং একটি স্বর্ণের আংটি অভিযুক্তদের কয়েকজন নিয়ে যান।
রাসেল অভিযোগ করেন, হামলার সময় একজন তার কাছ থেকে নগদ টাকা, আরেকজন মোবাইল ফোন এবং অন্য একজন তার স্বর্ণের আংটি নিয়ে যান।
‘মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললে প্রাণে মেরে ফেলা হবে’
অভিযোগের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে রাসেল উল্লেখ করেছেন, হামলার পর তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
তার দাবি, অভিযুক্তরা তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন—এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কোনো মিছিল, সভা, প্রতিবাদ বা কথা বললে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এমন হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
রাসেলের অভিযোগ, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে হামলা ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
হামলার পর স্থানীয়দের সহায়তায় রাসেলকে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। সেখানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজন এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেকেই ভয় পান। ফলে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে হামলা, লুট ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং টাকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের ভিত্তি কী—তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...