২২ কোটি টাকার প্রকল্পের টয়লেটে স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়, থমকে আছে ধোলাইখাল জলাধারের কাজ
স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর পুরান ঢাকার ধোলাইখাল জলাধার সংস্কার প্রকল্পে নির্মিত দুটি পাবলিক টয়লেটের একটিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে টয়লেটটির ফিনিশিং কাজ বন্ধ হয়ে থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার এ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ধোলাইখাল জলাধারকে আধুনিক নগর বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তর করা। তবে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও এখনও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জলাধারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে নির্মিত একটি টয়লেটের বাইরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান কার্যালয়ের ব্যানার ঝুলছে। ভেতরেও রয়েছে বিএনপির ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী ব্যানার। ব্যানারে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন হোসেন ও সদস্য সচিব মো. পায়েল শেখের ছবিও দেখা যায়।
প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারু এন্টারপ্রাইজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান বলেন, টয়লেটটির অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও ৫ আগস্টের পর থেকে এটি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ফিনিশিং কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে তারা লিখিতভাবে ডিএসসিসিকে জানিয়ে টয়লেটটি দখলমুক্ত করে বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক রাজিব খাদেম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ নাজিম বলেন, “এটি আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ক্লাব ছিল। সেখানে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদক বিক্রি হতো। বর্তমানে আমাদের কোনো কার্যালয় না থাকায় দলের পরামর্শে আপাতত এখানে বসছি।”
ধোলাইখাল জলাধারকে পুরান ঢাকার ‘ফুসফুস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন অবহেলায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া জলাধারটি আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। প্রকল্পের আওতায় হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক, উন্মুক্ত মঞ্চ, শিশু পার্ক, সবুজায়ন, ঝরনা ও খাদ্যকোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭২ শতাংশ কাজ শেষ দেখিয়ে ঠিকাদারকে ১৪ কোটি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৫৫ শতাংশ দেখিয়ে আরও ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ৩১ মে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও দেয়াল, প্রধান ফটক, সড়ক, বেঞ্চ, সবুজায়ন এবং একটি টয়লেটের ফিনিশিংসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিএসএম কনসাল্টিং ফার্মের নকশাগত ত্রুটি সংশোধনে আরও ছয় কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ নেওয়া হলেও সেই কাজও এখনো শুরু হয়নি। ফলে প্রকল্পের বাকি কাজ কবে এবং কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...