সংবাদ শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে ২০২৬ সালের বৃক্ষ মেলার সমাপ্তি, প্রথম নগর কানন নার্সারি আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রীড়া পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা ইয়াবা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক  সাখাওয়াত হোসেন খানের জন্মদিন পালন করলেন মহানগর যুবদল নেতা আব্দুর রহমান চাঁদাবাজি-জমি দখলের অভিযোগে ইকবাল হোসেন ও তার বাহিনী, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে ডনকে, তিন দশক পর উন্মোচিত হবে সালমান শাহ হত্যার জট? রুহুল কবির রিজভীকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন গোল মোহাম্মদ সরদার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা হলেন জুয়েল আরমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় রুহুল কবির রিজভীকে ফুলেল শুভেচ্ছা কেন্দ্রীয় ও নারায়ণগঞ্জ যুবদল নেতাদের হত্যা মামলার আসামি দেলু প্রকাশ্যে, প্রশাসন নির্বিকার!
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

জিকির আল্লাহর শ্রেষ্ঠ ইবাদত। কুরআনুল কারিমের ঘোষণায় শ্রেষ্ঠ জিকির হলো নামাজ।

স্বপ্নবাংলা নিউজ ডেস্ক / ২৬৯ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

জিকির আল্লাহর শ্রেষ্ঠ ইবাদত। কুরআনুল কারিমের ঘোষণায় শ্রেষ্ঠ জিকির হলো নামাজ।

আল্লাহ নিজের জন্য যে জিকির প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন
জিকির হলো স্মরণ করা। যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করবে আল্লাহ তাআলাও তাকে স্মরণ করার ঘোষণা দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে। এ ঘোষণা থেকেই বুঝা যায় যে, জিকির আল্লাহর শ্রেষ্ঠ ইবাদত। কুরআনুল কারিমের ঘোষণায় এ শ্রেষ্ঠ জিকির হলো নামাজ।

যেভাবে নামাজ শ্রেষ্ঠ জিকির হলো কুরআন এবং হাদিসে রয়েছে তার যথেষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য প্রতিদিন পাঁচ সময়ে এ জিকির করা ফরজ করেছেন। শ্রেষ্ঠ জিকির নামাজের কিছু প্রমাণ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

– কুরআনে আল্লাহ তাআলা এ জিকিরের নির্দেশ দিয়ে বলেন-
‘এবং তোমরা সকাল ও বিকালে তোমাদের মহান প্রভুর নামে জিকির কর।’ (সুরা ইনসান : আয়াত ২৫)

– কুরআনুল কারিমের অন্য আয়াতে নামাজকে তাসবিহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাসবিহ দ্বারাও আল্লাহর প্রশংসামূলক স্মরণকে বুঝানো হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাসবিহ আদায় কর, যখন সন্ধ্যায় (মাগরিব ও ইশার নামাজ দ্বারা) উপনীত হবে এবং সকালে (ফজর নামাজ দ্বারা) উঠবে। আর অপরাহ্নে (আসর নামাজ দ্বারা) ও জোহরের সময়ে। আর আসমান ও জমিনে সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই।’ (সুরা রূম : আয়াত ১৭-১৮)

– অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলার জিকির তথা স্মরণের জন্য জিকিরকে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন-
‘নামাজ প্রতিষ্ঠা কর আমার জিকিরের জন্য।’ (সুরা ত্বহা : আয়াত ১৪)

এভাবে কুরআনুল কারিমের অনেক স্থানে মানুষের শিক্ষা ও বাস্তবায়নের জন্য প্রিয়নবির প্রতি জিকিরের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর নির্দেশ মানুষের জন্য পালন করা ফরজ।

বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর জিকিরের যে নির্দেশ সুরা ইনসানের ২৫নং আয়াতে করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিখ্যাত তাফসিরকারদের ভাষ্য হলো, ‘নামাজই আল্লাহ তাআলার সর্বোত্তম জিকির।’

– হজরত ইবনে যাইদ বলেন, ‘সকালের জিকির হলো ফজরের নামাজ আর বিকালের জিকির হলো জোহরের সালাত।
– ইমাম তাবারি এ আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, ‘হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার প্রভুর নামে জিকির করুন। সকালে ফজরের নামাজে এবং বিকালে জোহর ও আসরের নামাজের মধ্যে আপনি তাঁকে তাঁর নাম ধরে ডাকুন।’
– ইমাম আল্লামা কুরতুবি বলেন, ‘সকাল-বিকাল আপনার প্রভুর নামের যিক্র করুন, অর্থাৎ দিনের প্রথমে ফজরের নামাজ এবং দিনের শেষে জোহর ও আসরের নামাজ আপনার প্রভুর জন্য আদায় করুন। আর রাতে তাঁর জন্য সেজদা করুন অর্থাৎ মাগরিব ও ইশার নামাজ আদায় করুন। আর দীর্ঘ রাত তাঁর তাসবিহ করুন অর্থাৎ রাতে নফল নামাজ আদায়ের মাধ্যমে তার জিকির করুন।
– বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘জালালাইন’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনি আপনার প্রভুর নামে জিকির করুন সকাল ও বিকালের নামাজের মাধ্যমে। অর্থাৎ ফজর জোহর ও আসরের নামাজের মাধ্যমে।

শুধু তাই নয়, হজ শারীরিক ও আর্থিক সামথ্যবানদের জন্য ফরজ। হজ আদায়কারী মানুষকেও হজের সময় নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সর্বোত্তম জিকিরের নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ। তিনি বলেন-

‘সুতরাং তোমরা আরাফা থেকে বের হয়ে আসবে, তখণ মাশআরে হারামের কাছে (মুজদালিফায়) আল্লাহকে (মাগরিব ও ইশা একসঙ্গে এবং ফজর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে) স্মরণ কর এবং তাকে স্মরণ কর যেভাবে তিনি তোমাদেরকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৯৮)

মুজদালিফায় হজপালনকারীদের প্রচলিত তাসবিহ-তাহলিল ইত্যাদি কোনো জিকির করা ফরজ-ওযাজিব নয়। শুধুমাত্র মাগরিব ও ইশা’র নামাজ (ইশার সময়) একত্রে আদায় করা ও ফজরের নামাজ আদায় করাই হাজীদের হজ সংক্রান্ত বিধান।

ইমাম তাবারি এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘তোমরা যখন আরাফাত থেকে ফিরে মুজদালিফায় চলে আসবে তখন আল্লাহর জিকির করবে, এখানে জিকির বলতে মাশআরুল হারামের কাছে নামাজ ও দোয়া করাকে বুঝানো হয়েছে।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে ওঠে তার স্ত্রীকে জাগাবে এবং দু’জনেই ২ রাকআত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করবে, আল্লাহর দরবারে তারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ জাকিরিন বা সর্বাধিক জিকিরকারী ও জিকিরকারিণিী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হবেন।

কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী এ কথা সুস্পষ্ট যে, আল্লাহর জিকির ও তাসবিহ এর মধ্যে শ্রেষ্ঠ জিকির কিংবা তাসবিহ হলো নামাজ আদায় করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাসময়ে ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ জিকির করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..