সংবাদ শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে ২০২৬ সালের বৃক্ষ মেলার সমাপ্তি, প্রথম নগর কানন নার্সারি আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রীড়া পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা ইয়াবা সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক  সাখাওয়াত হোসেন খানের জন্মদিন পালন করলেন মহানগর যুবদল নেতা আব্দুর রহমান চাঁদাবাজি-জমি দখলের অভিযোগে ইকবাল হোসেন ও তার বাহিনী, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে ডনকে, তিন দশক পর উন্মোচিত হবে সালমান শাহ হত্যার জট? রুহুল কবির রিজভীকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন গোল মোহাম্মদ সরদার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা হলেন জুয়েল আরমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় রুহুল কবির রিজভীকে ফুলেল শুভেচ্ছা কেন্দ্রীয় ও নারায়ণগঞ্জ যুবদল নেতাদের হত্যা মামলার আসামি দেলু প্রকাশ্যে, প্রশাসন নির্বিকার!
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

নিজ পরিচয় গোপন করে ভুয়া তথ্য দিয়ে কিভাবে সরকারি লাইসেন্সধারী দলিল লেখক হলেন আলমগীর হোসেন

স্বপ্নবাংলা নিউজ ডেস্ক / ৪০৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৪

নিজ পরিচয় গোপন করে ভুয়া তথ্য দিয়ে কিভাবে সরকারি লাইসেন্সধারী দলিল লেখক হলেন আলমগীর হোসেন

অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে অন্য লোকের এনআইডি কার্ড ও সার্টিফিকেট দিয়ে নিজের নামে সরকারি লাইসেন্স হাসিল করে দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ও দলিল মুসাবিদা কারক হিসেবে কাজ করছেন মোঃ আলমগীর হোসেন।

নিজ পরিচয় গোপন করে ভুয়া তথ্য দিয়ে কিভাবে সরকারি লাইসেন্স গ্রহণ করলেন আলমগীর হোসেন সে প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।

তথ্যসূত্রে জানা যায় নারায়ণগঞ্জ সদর মামুদপুর নিবাসী মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন। যার ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার ৬৭১০৭৫২৯১০২০। সপ্তম/অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা আলমগীর হোসেন তার লাইসেন্স করার জন্য যে আবেদন ফ্রম পূরণ করেছিলেন সেখানে তার নাম লেখা হয়েছিল মোহাম্মদ সুলতান আহমেদ।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ সুলতান আহমেদ কুমিল্লার মুরাদনগর থানার অন্তর্গত বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের গান্দ্রা নিবাসী আব্দুল বারেক মিয়ার পুত্র। পেশায় সুলতান আহমেদ একজন রাজমিস্ত্রি।
অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ মামুদপুর নিবাসী হয়েও কিভাবে কুমিল্লার মুরাদনগর নিবাসী সুলতান আহমেদের জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করলেন সে কথা সুলতান আহমেদ নিজেও জানেন না।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, একজন দলিল লেখক হিসেবে সরকারি ভাবে লাইসেন্সধারী হতে হলে আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ড, ছবি, ন্যূনতম এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র এবং একজন লাইসেন্সধারী দলিল লেখকের প্রত্যয়ন পত্র জমা দিতে হয়।

দলিল লেখকদের সনদ লাভের আবেদন পত্রের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে এর নিয়ম উল্লেখ করা আছে যেখানে লেখা আছে,
“জেলার যেকোনো ব্যক্তি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাব রেজিস্টার এর কার্যালয়ের এলাকার আওতাভুক্ত, যাহার বয়স ন্যূনতম ২১ বছরের জিনিস স্বীকৃত যে কোন বোর্ড হতে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সম্মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। যিনি এলাকার প্রচলিত স্থানীয় ভাষায় দলিলের ভালো মুসাবিদা করতে পারেন, যার হাতের লেখা সুন্দর, ভূমি, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন,,স্টাম্প আইন, নিবন্ধন আইন সহ গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহ সম্বন্ধে যার ব্যবহারিক জ্ঞান আছে যাহার আচরণ ভালো এবং সচ চরিত্রের অধিকারী তিনি সহস্তে লিখিত আকারে আবেদন করতে পারবেন। ”
উল্লেখিত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আলমগীর হোসেন যিনি সুলতান আহমদ নামধারী সেজে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে নিজ নামে লাইসেন্স করিয়ে বহাল তবিয়তের প্রতারণা করে আসছে। তার ব্যাবহৃত সাইনবোর্ডে দেখা যায়, নাম : সুলতান আহমেদ আলমগীর, সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লেখক ও আমিন, লাইসেন্স নং- ৮৪, এস আর office ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ। সার্ভে রেজি নং – ৯১৮৬/০৯
ময়নামতি সার্ভে ট্রেনিং সেন্টার।

প্রাপ্ত তথ্য মতে একথা স্পষ্টত যে, আলমগীর হোসেন তার এনআইডি কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে সুলতান আহমেদের নামের এনআইডি কার্ড জমা দেন। সেই ধারাবাহিকতায় ছবি নিজের জমা দিলেও কার্ড নিজের ছিল না। যেহেতু সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন আলমগীর হোসেন তাহলে এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট কারটা জমা দিলেন তিনি? তার নামের প্রত্যয়নপত্র চেয়ারম্যান কর্তৃক ইস্যু হতে হলে প্রথমত নিজ ওয়ার্ডের মেম্বার কর্তৃক সিল ও সই সম্বলিত হয়ে তারপর চেয়ারম্যানের কাছে যায়। সেক্ষেত্রে আলমগীর হোসেনের প্রত্যয়নপত্র কিভাবে সুলতান আহমেদের নামে ইস্যু হয়? এবং একজন সরকারি লাইসেন্সধারী দলিল লেখক কোন যাচাই-বাছাইয়ে ভিত্তিতে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন তা বোধগম্য নয়।
সার্বিক দিক বিবেচনায় এখন একটাই প্রশ্ন, সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ কতটুকু যাচাই বাছাই করে দলিল লেখকের মত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সার্টিফিকেট প্রদান করেন এবং এই ধরনের প্রতারক ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনগণ কতটুকু সুফল আশা করে।

এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসার খন্দকার জামিলুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই ধরনের জাল জালিয়াতি ফৌজদারি মামলার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..