নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির রাজনীতির মাঠে স্পষ্ট হচ্ছে নতুন সমীকরণ। একদিন আগেও যে নজরুল ইসলাম আজাদ বড় মিছিল দেখিয়ে “শক্তির প্রমাণ” দিতে চেয়েছিলেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই প্রদর্শনী ধুলিসাৎ করে দিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন।
৪ সেপ্টেম্বর সুমনের আয়োজনে উপজেলা বিএনপির আনন্দ শোভাযাত্রা বের হলে তা পরিণত হয় অপ্রতিরোধ্য জনস্রোতে। হাজারো নেতাকর্মীর ঢল, স্লোগান আর শৃঙ্খলিত বহরে আড়াইহাজারের প্রতিটি সড়ক উপচে পড়ে। এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় এমন এক বিস্ফোরক পরিবেশ, যা রাজনৈতিক মহলে সরাসরি বার্তা দিয়েছে—আড়াইহাজারে বিএনপির নেতৃত্বের পাল্লা এখন সুমনের দিকে ঝুঁকছে প্রবল গতিতে।
অন্যদিকে, ৩ সেপ্টেম্বর আজাদের শোডাউন ঘটা করে বের করা হলেও, সুমনের শক্তি প্রদর্শনের পর তা এখন কার্যত হাস্যকর ও নগণ্য মনে হচ্ছে। আজাদের নেতৃত্বে যেখানে সীমিত সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ দেখা গেছে, সেখানে সুমনের মিছিলে বহুগুণ বেশি জনসমাগমে গোটা আড়াইহাজার অচল হয়ে পড়ে। ফলে তুলনামূলক বিশ্লেষণে স্পষ্ট—আজাদের রাজনৈতিক শক্তি ক্রমশ ম্লান হয়ে যাচ্ছে, আর সুমন হয়ে উঠছেন আড়াইহাজার বিএনপির “গেম চেঞ্জার”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শোডাউন দুই নেতার ভেতরকার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। আজাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও একদিন আগের শোডাউন সুমনের প্রবল জনশক্তির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে মন্তব্য করছেন—“আজাদের শোডাউন ছিল কাগুজে বাঘ, সুমনের শোডাউন প্রমাণ করেছে মাঠের আসল জনপ্রিয়তা।”
আড়াইহাজার বিএনপির ভেতরে এখন আলোচনা চলছে—কে হবে আগামী দিনে নেতৃত্বের মুখ? সবার চোখে একটাই প্রশ্ন—আজাদের নেতৃত্ব কি তবে শেষের পথে? নাকি সুমনের এই জনস্রোত ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন শক্তির আগমন বার্তা?
আড়াইহাজারে এই পাল্টাপাল্টি শক্তি প্রদর্শন বিএনপির ভেতরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেতাকর্মীরা এখন সরাসরি বলছেন—আজাদের শোডাউনের উজ্জ্বলতা সুমনের মহাবিস্ফোরক শক্তির কাছে নিঃশেষিত হয়ে গেছে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...