বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ফতুল্লার তক্কার মাঠের দেলু। তার বিরুদ্ধে গুরুতর মামলার তথ্য থাকার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
ফতুল্লা থানার এফআইআর নং-২০, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৪, জি.আর. নং-৪৩৭, মামলার সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিট। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩০২/১১৪/৩৪ ধারা এবং Explosive Substances Act, 1908-এর ৩এ/৬ ধারা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া মামলা নং-২৬, তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৪-এর তথ্যও রয়েছে। অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে মামলা যে গুরুতর ধারায় হয়েছে, নথিতেই তার প্রতিফলন রয়েছে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, এত গুরুতর মামলার আসামি হয়েও দেলু কীভাবে প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো পদক্ষেপ নেই কেন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেলু শুধু ওই মামলার আসামি নন; তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি দখল, জমির কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি, জাল দলিল ব্যবহারের অভিযোগ এবং জমি বিক্রির কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে অভিযোগও করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রির নামে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার পর নানা অজুহাতে জমি বুঝিয়ে না দেওয়া কিংবা জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি করার মতো কর্মকাণ্ডেও দেলুর নাম এসেছে। এমনকি বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও জমি সংক্রান্ত লেনদেন ও নানা কর্মকাণ্ডে তার তৎপরতা থেমে নেই—এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে দেলু এলাকায় নিজের একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছিলেন। সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মানুষের সঙ্গে প্রতারণামূলক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো—যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার মতো গুরুতর মামলায় আসামি হওয়ার তথ্য রয়েছে, সেই ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ান এবং একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নতুন করে জমি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠতে থাকে, তাহলে প্রশাসন কোথায়?
স্থানীয়দের ভাষ্য, আইনের চোখে সবাই সমান। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা অতীতের প্রভাব—কোনোটিই একজন মামলার আসামিকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। তাই দেলুর বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও অভিযোগগুলো দ্রুত যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে—দেলু প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, প্রশাসন কি তা জানে না, নাকি জেনেও নীরব?
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার পাশাপাশি জমি দখল, জাল দলিল, জমি বিক্রির নামে টাকা নেওয়া এবং অন্যান্য অভিযোগও তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি আইনের আওতার বাইরে আছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
তবে মামলায় আসামি হওয়া বা অভিযোগ ওঠা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। দেলুর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...