দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও একাধিক মামলায় জামিন লাভের পর অবশেষে কারামুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার (৪ জুন) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, বিকেলে জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাত ১০টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
জানা গেছে, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মোট ১২টি মামলায় উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশে জামিন বহাল থাকায় তার মুক্তির সব আইনি বাধা দূর হয়। এর মধ্যে গত ১০ মে ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশ আপিল বিভাগ বহাল রাখে। পরবর্তীতে আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে গত ১৭ মে আপিল বিভাগ সেসব মামলাতেও জামিন বহাল রাখার নির্দেশ দেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, “আপিল বিভাগের আদেশগুলো নারায়ণগঞ্জের বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর পর একই দিনে জামিন কার্যকরের আবেদন করা হয়। আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। শেষ পর্যন্ত বুধবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছালে তার মুক্তি নিশ্চিত হয়।”
তিনি আরও জানান, “সব মামলায় আদালতের দেওয়া জামিন কার্যকর হওয়ায় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মুক্তি পেয়েছেন। তিনি আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন এবং ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।”
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তির খবরে তার সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক নেত্রীর মুক্তিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার মুক্তির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার মুক্তির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...