নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাঠানটুলি এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম রিফাত বিগত সৈরচার সরকারের আমলে ছিলো আওয়ামিলীগ আর এখন পরিচয় দিয়ে বেড়ায় সমন্বয়ক। গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পুর্বে তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাদাবাজি ধর্ষন সহ ছিল একাধিক মামলা। এবং জুলাই আন্দলোনে গিয়ে ছাত্র জনতার উপর আক্রমন করে বৈষম্যবিরোধী দুইটি মামলাও তার বিরুদ্ধে আছে যার এলটি বিস্ফোরক আর অন্যটি হত্যা। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আছে একটি ধর্ষন সহ ৩টি হত্যা চেস্টা মামলা যেখানে আগ্নেয় অস্ত্র সহ উল্লেখ আছে। এ ছাড়াও ফতুল্লা থানায় আছে আরেকটি অপহরণ মামলা। এমনকি বন্দর থানায়ও রয়েছে আরেক ধর্ষন মামলার অভিযোগ সহ বিভিন্ন থানায় একাধিক জিডি ও পুলিশ সুপার ও ডিসি আইজিপি বরাবর আছে ভুক্তভোগী বিভিন্ন পরিবারের অভিযোগ। আর সেই কলংক মুছতে সে সমন্বয়কের পরিচয় নিয়ে দীর্ঘ দিন সার্জিস আলম ও রাফির সাথে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। অবশেষে শেষ রক্ষা আর হলো না তার। কিছুদিন ধরে ঢাকা অঞ্চল থেকে ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিজম ইউনিট তাকে হন্য হয়ে খুজে বেড়াচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে বিভিন্ন ভাবে। স্থানীয় প্রশাসনও তাকে নজরদারিতে রেখেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই এলাকার এক দোকানদার বলেন, এই রিফাতের মতো অনেকেই ছাত্র হত্যা করে এখন সমন্বয়ক হয়েছে আর মামলা খাচ্ছে নিরীহ জনগন। এদের মুখোশ এখন ধীরে ধীরে বের হচ্ছে। আরেক পথচারী বলেন, আওয়ামিলীগের যারা ছাত্র হত্যার সাথে জড়িত তারা এখন এভাবেই বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনের নেতা সেজে বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে। তিনি আরও বলেন,এই খুনি ধর্ষক রিফাতের মতই এভাবেই একদিন সবার মুখোশ উন্মুচিত হবে সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
তথ্য নিয়ে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ পাঠানটুলি এলাকার আওয়ামীলীগের নেত্রী আসমা বেগম ও আওয়ামীলীগের মিছিলে লোক জোগান দাতা দালাল আলাউদ্দিনের ছেলে এই শফিকুল ইসলাম রিফাত বিগত ফ্যসিস্ট সরকারের আমলে অত্র এলাকায় চুরি,ছিনতাই চাদাবাজি সহ আজমেরী ওসমানের নামে এলাকায় নানা অপকর্মে করে বেড়াত।
সবশেষ সে আজমেরী মায়ের নামে ডিসের ব্যবসা লুট করে তা পরিচালনা করত। এক পর্যায়ে গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই খুনি রিফাত আওয়ামীলীগের নেতাদের থেকে টাকা নিয়ে তার পিতা ও সে দলবল নিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার উপর আক্রমন করে ছাত্রদের হত্যা করতে প্রকাশ্যে ঢাকা অঞ্চলে গুলি করে বেড়াত।
ভাগ্যের কি পরিহাস। গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামীলীগের পতনের পর তারা বনে যায় বৈষম্য নেতা আর পরিচয় দিয়ে বেড়ায় সমন্বয়ক। এভাবে দীর্ঘদিন বিভিন্ন আওয়ামীলীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে গিয়ে তাদের জিম্মি করে মব সৃস্টি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত তার ভাই রিদয় সহ তার পরিবার। যারা টাকা না দিতেন তাদেরকে বৈষম্য মামলায় পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিতেন। এখন উল্টো সেই রিফাত ও তার পিতার বিরুদ্ধে এই বৈষম্য মামলা হওয়াতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে এলাকাবাসী জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেক মানুষ বলেন, রিফাত মানে একজন মহাপ্রতারকের নাম। বিগত সময়ে ভাইজানখ্যাত আজমেরী ওসমানের ব্যানারে চলাচল করলেও বর্তমানে সমন্ময়ক পরিচয়ে মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। এ কাজে রিফাত বর্তমানে সার্জিস আলম ও রাফির সাথে ছবি উঠিয়ে তার সাধারন মানুষকে দেখিয়ে ভীতি সৃষ্টি করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আরও বলেন,বিভিন্ন অপরাধের দায়ে এ প্রতারক রিফাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগও রয়েছে। ওর মত একজন মহাপ্রতারক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মহানায়কদের সাথে ছবি তুলে তা প্রচার করে নিজে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সারজিস আলমরা। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত নয় বিতর্কিতও করে তুলছে জুলাই যোদ্ধাদেরকে।
তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য এলাকাবাসী পুলিশ ও র্যবের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
উক্ত শফিকুল ইসলাম রিফাত ও তার পিতা আওয়ামিলীগ নেতা আলাউদ্দিন সহ তার ভাই রিদয়, সিফাত এবং লেডি গুন্ডা তার মা আসমা বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন ভুক্তভোগী পরিবারের করা অপরাধের চিত্র নিচে তুলে দেয়া হলো।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলা নং ৩১/৮৬ তারিখ ১০/৯/২০২৫, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যাচেষ্টা বিস্ফোরক মামলা নং ০৬/১৭০ না:গাঞ্জ সদর থানা তারিখ ১৫/৯/২৫,৩) ধর্ষন মামলা নং ২৫(৮)২৩ না:গঞ্জ আদালত। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নং ২০(১২)২২, অপহরণ মামলা নং পি- ৫১৬/২৪ ফতুল্লা থানা, হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেঅস্ত্র প্রদর্শন মামলা নং ২৫/ তারিখ ৩০/১১/২৪ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা,হত্যা চেস্টা মামলা নং ২০ তারিখ (১১/১/২০২৫) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, বন্দর থানায় ধর্ষনের অভিযোগ তারিখ, ১/৮/২০২৪, নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধিরগঞ্জ আদালত মামলা নং পি-২৩৭/২৫ তারিখ ২৪/৭/২৫, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জিডি নং ৪৩৮। তারিখ ৮/১/২৩, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জিডি নিং৩১২ তারিখ ৪/৯/২৩, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জিডি নং ৩০০ তারিখ ৫/১২/২৪, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জিডি নং ১৩৪৯ তারিখ ২৩/৬/২৩, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জিডি নং ৪৩৯ তারিখ ৬/৮/২৫, পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ তারিখ ২২/১/২৫, অভিযোগ ফতুল্লা থানা তারিখ ১৫/২১/২৩, আইজিপি বরাবর অভিযোগ নং ১১৫০০ তারিখ ১০/৮/২৩, জুলাই আহত ব্যাক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আতœসাত করার অভিযোগ ডিসি বরাবর তারিখ ১০/৩/২৫,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলা ফতুল্লা যার নং ২৭ ( ১৪/১০/২৫ইং)।
এ ছাড়াও বিভিন্ন থানায় আরও অনেক অপকর্মের অভিযোগ আছে এই পরিবারের বিরুদ্ধে যা খুজ নিলে পাওয়া যেতে পারে। এত অপরাধ চিত্রের প্রমান থাকা সত্ত্বেও সারজিজ আলমদের সাথে থেকে সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তা জানতে চায় নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারন মানুষ।
বর্তমানে অপরাধ নির্মুলে চলমান ডেভিল হান্ট ফেইট ২ অপারেশনে ভয়ংকর এ অপরাধী শফিকুল ইসলাম রিফাতকে দ্রুত আইনের আওতায় নেয়ার জন্য জেলা পুলিশ,র্যাব ও সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানান সাধারন মানুষ। নতুবা ভয়ংকর শফিকুল ইসলাম রিফাতগংয়ের মাধ্যমে ওসমান হাদির মত অন্যান্য জুলাই যোদ্ধারাও বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...