নারায়ণগঞ্জে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর জেলা ও মহানগর শাখায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। নেতৃত্বের বিরোধ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং গোপন কর্মী সম্মেলনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মহাসচিব মুফতী মনির হোসেন কাসেমী-এর নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান এবং মহানগর সভাপতি কামাল উদ্দিন দায়েমী আলাদাভাবে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেন। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বাইরে গিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিল আয়োজনের উদ্যোগ নেন, যা সংগঠনের ভেতরে বিতর্কের জন্ম দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, এসব কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে জেলা ও মহানগরের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবহিত করা হয়নি, এমনকি কেন্দ্রীয় নেতাদেরও একপাক্ষিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে কাসেমী নিজেকে এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। পরবর্তীতে চাপের মুখে একটি নির্ধারিত কাউন্সিল স্থগিত করা হয়।
কিন্তু পরিস্থিতি সেখানেই থেমে থাকেনি। সংশ্লিষ্ট নেতারা শোকজ নোটিশ পাওয়ার পরও কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং ৯ এপ্রিল হীরা কমিউনিটি সেন্টারে গোপনে কর্মী সম্মেলনের আয়োজনের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে জেলা ও মহানগরের একাধিক নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সম্মেলনটি ভণ্ডুল করে দেন।
এ সময় জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আয়োজকদের একাংশ পেছনের দরজা দিয়ে সরে যান বলে জানা গেছে। পরে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ও সাবেক মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে এলে উত্তেজিত নেতাকর্মীদের সামাল দিতে দায়িত্বশীলরা দ্রুত তাদের সরিয়ে নেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া শোকজ নোটিশে অভিযোগ করা হয়, জেলা সভাপতিকে অবহিত না করে এবং কার্যকরী পরিষদের কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই মহানগর কাউন্সিল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও তোলা হয়।
নোটিশে ৯ এপ্রিলের কাউন্সিল স্থগিত রেখে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান এই নোটিশকে ‘ভুয়া’ দাবি করে জানান, তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি এবং ব্যবহৃত প্যাডও দলীয় নয়।
এদিকে মুফতী মনির হোসেন কাসেমী সরাসরি যোগাযোগে না মিললেও অন্য মাধ্যমে জানিয়েছেন, সংগঠনের ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নিয়মের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সাংগঠনিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...