দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হলেও পরাজিত শক্তির বিভিন্ন দোসর এখনও নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অনুপ্রবেশ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন কাশীপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ সোহেল রানাকে নিয়েও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, মোঃ সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর সহযোগী সংগঠন যুবদলের একজন একনিষ্ঠ ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন। বিগত সময়ে সরকারের বিভিন্ন দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির নেতৃত্বে রাজপথের কর্মসূচিগুলোতে সোহেল রানা ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় ও সাহসী একজন সংগঠক। দলের দুর্দিনে যখন অনেকেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, তখনও তিনি মাঠে থেকে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখসারিতে অবস্থান করেছেন। সম্প্রতি সোহেল রানাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে ফতুল্লা থানার কাশীপুর পশ্চিম ভোলাইল গেদ্দার বাজার এলাকায় সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনায় তাকে জড়ানোর অপচেষ্টা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে গভীর রাতে কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সোহেল রানা। সেখানে তিনি এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে একটি মহল ওই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার শুরু করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে নিজেদের সময়, শ্রম ও জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে তা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সংগঠনের জন্যই ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
তাদের দাবি, বিগত দিনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বন্ধ করে প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। অন্যথায় দলীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে অপপ্রচার ও গুজবের মাধ্যমে কারও রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করার প্রবণতা বন্ধে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...